ই-গভর্ন্যান্স ও বাংলাদেশ

0
29

ই-গভর্ন্যান্স ও বাংলাদেশ
E-Governance & Bangladesh
:

বর্তমান বাংলাদেশে সরকার ই-গভর্ন্যান্সের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে।

বর্তমান সরকার ভিশন-২০২১-এর আওতায় বাংলাদেশকে ডিজিটাল রাষ্ট্ররূপে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়াসে দেশব্যাপী ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে ICT টাস্কফোর্স The Support to ICT (SICT) গঠন করেছে।

এ টাস্কফোর্স (Task Force)-এর সহায়তায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার সহজতর হচ্ছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল সেবাদান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ই-গভর্ন্যান্স কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ ই-গভর্ন্যান্সের কার্যক্রম পরিচালনায় বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ : করা হয়েছে।

এর ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও জনসংযোগ সহজতর হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের ই-গভর্ন্যান্স কার্যক্রম নিম্নরূপভাবে সংঘটিত হচ্ছে
LAN-এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ফাইল আদান-প্রদানের সুযোগ-সুবিধা প্রদান ।

  • ইলেকট্রনিক বোর্ডের মাধ্যমে ফাইল আদান-প্রদানের সুযোগ-সুবিধা প্রদান ।

ভিডিও কনফারেন্সিং-এর ব্যবস্থাকরণ।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে আন্তঃমন্ত্রণালয় যোগাযোগ স্থাপন ।

বিভিন্ন সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে অ্যাপ তৈরি করেছে।

এসব অ্যাপ গুগল প্লেস্টোর অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা এবং বিভিন্ন ফি EFT (Electronic Fund Transfer)-এর মাধ্যমে।
প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পুলিশি কার্যক্রমের আধুনিকীকরণ : সম্প্রতি ২০১৪ সাল থেকে ঢাকায় মহাসড়কে অপরাধ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ক্যামেরা চালু করা হয়েছে।

রাজধানীর প্রধান সড়কের গাড়িগুলো পর্যবেক্ষণে ভিডিও স্ট্রিমিং ডিভাইস ব্যবহার শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনলাইন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সেবা আজ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের নাগরিকগণ ঘরে বসেই নির্ধারিত ফরম পূরণ করে সাধারণ ডায়েরি করতে পারেন।

যেকোনো ধরনের দলিল, সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংকের চেক বই ইত্যাদি হারানো, চুরি বা ছিনতাই সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে বাসায় বসেই নিরাপদে অনলাইনে জিডি করতে পারবে।

এছাড়াও বখাটে, মাদকসেবী বা অপরাধীদের আড্ডাস্থান বা অন্য কোনো অবৈধ সমাবেশ সম্পর্কিত অভিযোগ অনলাইনে করার সুযোগ রয়েছে।

দেশের নাগরিকদের জরুরি সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে ৯৯৯ জরুরি সেবা।

নিজের মোবাইল নম্বর থেকে সম্পূর্ণ টোল ফ্রি কল করে বাংলাদেশের নাগরিকরা জরুরি মুহুর্তে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা এ্যাম্বুলেন্স সেবা পাবেন।

প্রযুক্তির ব্যবহার পুলিশের আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আধুনিক করে গড়ে তুলেছে।

ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্র চালু : এদেশে ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশ ইউনিয়ন তথ্যসেবা পাচ্ছে।

ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণ যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে সেগুলো হলো :

পাসপোর্ট ইস্যু করা।
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যু করা।
বেকার যুবকদের জন্য চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রচার।

অনলাইনের মাধ্যমে চাকরির আবেদন ফরম পূরণ।

শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ভর্তিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে পারে এবং আবেদন ফরম পূরণ করতে পারে।

গ্রামীণ মহিলারা তাদের অধিকার, বিয়ে, মাতৃত্বকালীন বিষয়ে নানাবিধ তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে।