সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্ন্যান্সের

0
27

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্ন্যান্সের প্রয়োজনীয়তা
Necessity of E-Governance Establishing Good Governance:

সুশাসন বলতে সেই শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে সরকার হবে দক্ষ, কার্যকর ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক দেশের সম্পদ ব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পাদনের বিষয়টিতে থাকবে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিত যেকোনো শাসনব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্যই হলো রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

আর আধুনিককালে ই-গভর্ন্যান্স হ সুশাসনের কথা কল্পনাই করা যায় না।

কারণ সুশাসনের সব ধরনের বৈশিষ্ট্য পূরণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাই হলো গভর্ন্যান্স।
এ ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

নিচে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গভর্ন্যান্সের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হলো-

সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি :
সুশাসনের অন্যতম নিয়ামক শক্তি হলো স্বচ্ছতা।
এ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্নাঙ্গ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
এ শাসনব্যবস্থার প্রধান সুবিধা হলো অবাধ তথ্য প্রবেশগম্যতা ও উন্মুক্তকরণ।

কর সরকারের শাসনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের পরিষ্কার ধারণা থাকে এবং সরকার ইচ্ছা করলেও যা ঘুমি তা করতে পারে না।
অর্থাৎ সুশাসনের ভিত্তি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ই-গভর্ন্যান্স।

সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি : ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

জনগণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে।

ফলে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং অধিকতর দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়,যা সুশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

জন-অংশগ্রহণ বৃদ্ধি : সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অংশগ্রহণভিত্তিক, দক্ষ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।

এ ই-গভর্ন্যান্স অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণকে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে উৎসাহিত করে এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি : ই-গভর্নান্স সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সাড়াদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেছে।

তথ্যের অবাধ ও দ্রুত লেনদেনের মাধ্যমে প্রশাসনকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। এতে আমলাতন্ত্রের জটিলতা কমে গতিশীল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিকদের চাহিদার প্রতি দ্রুত সাড়া
প্রদান সম্ভব হচ্ছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা : সুশাসনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও যুগোপযোগী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ই-গভর্ন্যান্স আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাবতীয় কার্যাবলির সম্পূর্ণ চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরে সুশাসনের এ শর্তটি পূরণ করে।

তাছাড়া সুশাসনের জন্য অধিক জরুরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্ন্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

অবাধ তথ্যপ্রবাহ সৃষ্টি : সুশাসনের লক্ষ্য হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও অধিকার নিশ্চিত করা।

আর এ ক্ষেত্রে ই- গভর্ন্যান্সের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কারণ ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান মাধ্যমই হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

তাই ই-গভর্ন্যান্স সুশাসনের এ লক্ষ্যটি পূরণ করে দেশে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও অধিকার নিশ্চিত করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে ।

প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ : সাংবিধানিকভাবে যেকোনো গণতান্ত্রিক প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

ই- গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা প্রশাসনসংক্রান্ত সব তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে প্রশাসনের এ দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

এসব ক্ষেত্রে রেডিও, টিভি, ভিডিও কনফারেন্স ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা : দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র সুশাসনব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

আর ই-গভর্ন্যান্স হলো এ দুর্নীতি দূরীকরণের ব্যাপারে আদর্শিক ও কাঠামোগত শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার নিয়ামক।

ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থায় সরকারের শাসনকার্য, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবসায়-বাণিজ্য তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ফলে দুর্নীতি হওয়ার সুযোগ কম থাকে। এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপিত হয় ।
মূলত সুশাসন ও ই-গভর্ন্যান্স একটি অপরটির পরিপূরক।

তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং সুশাসনকে অধিক কার্যকর করে তুলতে ই-গভর্ন্যান্সের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

অন্যভাবে বলা যায়, ই-গভর্ন্যান্সের সহায়তা ছাড়া সুশাসন কল্পনা করা যায় না।


Necessity of E-Governance Establishing Good Governance:

সুশাসন বলতে সেই শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে সরকার হবে দক্ষ, কার্যকর ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক দেশের সম্পদ ব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পাদনের বিষয়টিতে থাকবে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিত যেকোনো শাসনব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্যই হলো রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

আর আধুনিককালে ই-গভর্ন্যান্স হ সুশাসনের কথা কল্পনাই করা যায় না।

কারণ সুশাসনের সব ধরনের বৈশিষ্ট্য পূরণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাই হলো গভর্ন্যান্স।
এ ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

নিচে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গভর্ন্যান্সের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হলো-

সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি :
সুশাসনের অন্যতম নিয়ামক শক্তি হলো স্বচ্ছতা।
এ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্নাঙ্গ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
এ শাসনব্যবস্থার প্রধান সুবিধা হলো অবাধ তথ্য প্রবেশগম্যতা ও উন্মুক্তকরণ।

কর সরকারের শাসনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের পরিষ্কার ধারণা থাকে এবং সরকার ইচ্ছা করলেও যা ঘুমি তা করতে পারে না।
অর্থাৎ সুশাসনের ভিত্তি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ই-গভর্ন্যান্স।

সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি : ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

জনগণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে।

ফলে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং অধিকতর দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়,যা সুশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

জন-অংশগ্রহণ বৃদ্ধি : সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অংশগ্রহণভিত্তিক, দক্ষ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।

এ ই-গভর্ন্যান্স অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণকে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে উৎসাহিত করে এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি : ই-গভর্নান্স সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সাড়াদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেছে।

তথ্যের অবাধ ও দ্রুত লেনদেনের মাধ্যমে প্রশাসনকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। এতে আমলাতন্ত্রের জটিলতা কমে গতিশীল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিকদের চাহিদার প্রতি দ্রুত সাড়া
প্রদান সম্ভব হচ্ছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা : সুশাসনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও যুগোপযোগী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ই-গভর্ন্যান্স আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাবতীয় কার্যাবলির সম্পূর্ণ চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরে সুশাসনের এ শর্তটি পূরণ করে।

তাছাড়া সুশাসনের জন্য অধিক জরুরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্ন্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

অবাধ তথ্যপ্রবাহ সৃষ্টি : সুশাসনের লক্ষ্য হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও অধিকার নিশ্চিত করা।

আর এ ক্ষেত্রে ই- গভর্ন্যান্সের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কারণ ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান মাধ্যমই হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

তাই ই-গভর্ন্যান্স সুশাসনের এ লক্ষ্যটি পূরণ করে দেশে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও অধিকার নিশ্চিত করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে ।

প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ : সাংবিধানিকভাবে যেকোনো গণতান্ত্রিক প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

ই- গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা প্রশাসনসংক্রান্ত সব তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে প্রশাসনের এ দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

এসব ক্ষেত্রে রেডিও, টিভি, ভিডিও কনফারেন্স ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা : দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র সুশাসনব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

আর ই-গভর্ন্যান্স হলো এ দুর্নীতি দূরীকরণের ব্যাপারে আদর্শিক ও কাঠামোগত শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার নিয়ামক।

ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থায় সরকারের শাসনকার্য, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবসায়-বাণিজ্য তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ফলে দুর্নীতি হওয়ার সুযোগ কম থাকে। এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপিত হয় ।
মূলত সুশাসন ও ই-গভর্ন্যান্স একটি অপরটির পরিপূরক।

তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং সুশাসনকে অধিক কার্যকর করে তুলতে ই-গভর্ন্যান্সের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

অন্যভাবে বলা যায়, ই-গভর্ন্যান্সের সহায়তা ছাড়া সুশাসন কল্পনা করা যায় না।