Table of Contents
ভোগ্য পণ্যের শ্রেণিবিভাগ:
উত্তর : ভোগ্য পণ্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। নিচে দেখানো হলো:
১. সুবিধা পণ্য: যে সমস্ত ভোগ্য পণ্য ক্রয়ের সময় ভোক্তা বা ক্রেতাগণ দর কষাকষি করে না, মূল্য সম্পর্কে তেমন কোন যাচাই করে না, অল্প অল্প পরিমাণে প্রতিনিয়ত নিকটস্থ খুচরা দোকান হতে ক্রয় করে সে সমস্ত পণ্যসামগ্রীকে সুবিধা পণ্য বলা হয়। যেমন- ব্রেড, বিস্কুট, সাবান, লবণ ইত্যাদি।
সুবিধা পণ্য তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়; যথা- (ক)অত্যাবশ্যকীয় পণ্য
(খ) লোভনীয় পণ্য
(গ) জরুরী পণ্য।
ভোগ্য পণ্যের শ্রেণিবিভাগ:
(ক) অত্যাবশ্যকীয় পণ্য : আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য যে সমস্ত পণ্যসামগ্রী একান্তভাবে প্রয়োজন সেগুলোকেই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বলে। যেমন- চাল, তেল, লবণ ইত্যাদি।

(খ) লোভনীয় পণ্য: যেসব পণ্য ক্রেতারা মুহূর্তের দেখায় বিশেষ ভাবনা-চিন্তা না করেই ক্রয় করে থাকে সেসব পণ্যকে লোভনীয় পণ্য বলে। যেমন- আইসক্রীম, চটপটি, খেলনা ইত্যাদি। কোন প্রকার পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই তাৎক্ষণিক পছন্দ অনুসারে ক্রেতা এসব পণ্য ক্রয় করে থাকে।
(গ) জরুরী পণ্য: মানুষের জরুরী প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম এমন সব পণ্যকে জরুরী পণ্য বলে। যেমন- বৃষ্টির দিনে ছাতা, অসুস্থ হলে ঔষধ ইত্যাদি। জরুরী পণ্য পণ্যের কোন বিশেষ শ্রেণীবিভাগ নয়। হঠাৎ করে কোন পণ্য দরকার হলে তাকে জরুরী পণ্যের অন্ত-র্ভুক্ত করা হয়।

২. শপিং পণ্য যেসব পণ্য ক্রয়ে ক্রেতা অনেক সময় ব্যয় করে, অনেক দ্রব্যের সাথে তুলনা করে, অনেক দোকান ঘুরে, অনেক ভেবে-চিন্তে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, সে সব পণ্যকে শপিং পণ্য বলে। যেমন- আসবাবপত্র, জুতা, ঘড়ি, টেলিভিশন ইত্যাদি। অধ্যাপক ফিলিপ কটলার বলেন, “ক্রেতার যেসব পণ্যের উপযুক্ততা, গুণাগুণ, দাম ও স্টাইল বিবেচনা করে ক্রয়ের জন্য নির্বাচন করে সে সব পণ্যকে শপিং পণ্য বলে।”
শপিং পণ্যকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) সৌখিন পণ্য: সৌখিন পণ্য বলতে সে সব পণ্যসামগ্রীকে বোঝায় যা ক্রেতারা শখের বশবর্তী হয়ে ক্রয় করে থাকে। যেমন- আসবাবপত্র অলংকার, পোষাক-পরিচ্ছেদ ইত্যাদি। হগার অভ্যন্তর

(খ) সেবা পণ্য: যেসব শপিং পণ্যের স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয় এবং সেগুলোর কর্মদক্ষতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী মাঝে মাঝে মেরামত বা সার্ভিসিং করার প্রয়োজন হয় সে সব পণ্যকে সেবা পণ্য বলে। যেমন- রেফ্রিজারেটর, টিভি, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি।
৩. বিশিষ্ট পণ্য: যেসব পণ্যসামগ্রী ক্রয়ের জন্য ভোক্তাগণ ব্যাকুলচিত্তে বিশেষ ধরনের প্রচেষ্টা চালায় সে সব পণ্যসামগ্রীকে বিশিষ্ট পণ্য বলে। যেমন- মার্সিডিজ গাড়ী, দামী ব্রান্ডের পারফিউম, জুমলেন্স বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ক্যামেরা ইত্যাদি। আমেরিকান মার্কেটিং সমিতির মতে, “ব্র্যান্ডযুক্ত ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন যেসব পণ্যের জন্য এক শ্রেণীর ক্রেতারা বিশেষ ক্রয় প্রচেষ্টা চালাতে স্বভাবত ইচ্ছুক থাকে ঐসব পণ্যকে বিশিষ্ট পণ্য বলে।”

৪. অযাচিত পণ্য: যেসব পণ্য ক্রেতা দেখেনি বা দেখলেও সাধারণভাবে কেনার কথা ভাবেনি সেসব পণ্যকে অযাচিত পণ্য বলে। যেমন- জীবন বীমা পলিসি, বিশ্বকোষ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ইত্যাদি। অধ্যাপক ফিলিপ কটলার এর মতে, “অযাচিত পণ্য হলো ঐ জাতীয় পণ্য যেগুলো সম্পর্কে ক্রেতারা জ্ঞাত নয় অথবা অযাচিত পণ্যকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়; যথা-
(ক) নিয়মিত অযাচিত পণ্য: নিয়মিত অযাচিত পণ্য হলো ঐসব অযাচিত পণ্য যা সম্পর্কে ক্রেতা পূর্ব থেকেই অবগত থাকে কিন্তু সাধারণভাবে কেনার চিন্তা করে না। যেমন- জীবন বীমা পলিসিত বিশ্বকোষ ইত্যাদি।
(খ) নতুন অযাচিত পণ্য নতুন অযাচিত পণ্য হলো ঐসব অযাচিত পণ্য বা সবেমাত্র বাজারে এসেছে এবং সে সম্পর্কে ক্রেতারা এখনও ধারণা লাভ করে উঠতে পারেনি। যেমন- সৌর চালিত গাড়ী, সৌর বিদ্যুৎ মাহাক্রোওভেন ইত্যাদি।