প্রশ্ন ॥৩.০১ ভোক্তা বাজার এর সংজ্ঞা দাও ।

0
41

ভোক্তা বাজার এর সংজ্ঞা

উত্তর ভূমিকা : মার্কেটিং-এর দৃষ্টিকোণ থেকে বাজার হলো কোন পণ্যের বর্তমান এবং সম্ভব্য সকল ক্রেতার সমষ্টি। অর্থাৎ যে সকল ব্যক্তি ও পরিবারবর্গ ব্যক্তিগত ভোগের জন্য পণ্য বা সেবাসমূহ ক্রয় করে তাই ভোক্তা বাজার ।

ভোক্তা বাজারের সংজ্ঞা : যেখান থেকে সাধারণ ব্যক্তি বা জনগণ পরিবারের সদস্যরা তাদের নিজেদের পরিবারের সকলের ভোগের উদ্দেশ্যে যে দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করে তাকে ভোক্তা বাজার বলে।ব্যষ্টিক পরিবেশকে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়। যথা :

১.কোম্পানি (Company)
২ সরবরাহকারী (Supplier)
৩. মধ্যস্থকারবারি (Intermediaries)
8.ক্রেতার বাজার (Customers market )
৫. প্রতিযোগী (Competitioners )
৬. জনগোষ্ঠী (Public)

নিম্নে বর্ণনা করা হল-

১.কোম্পানি : কোম্পানি বাজারজাতকরণ পরিবেশের একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান। যে কোন কোম্পানিতে বিভিন্ন বিভাগ থাকে -এবং এ বিভাগগুলো বিভিন্নভাবে বাজারজাতকরণ পরিবেশকে প্রভাবিত করে। কোম্পানিকে তার কার্যাবলি সুচারুরূপে সম্পাদন করার জন্য বিভিন্ন বিভাগ; যেমন: বিক্রয় বিভাগ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, উৎপাদন বিভাগ, হিসাব বিভাগ ইত্যাদি বিভাগের সাথে সম্পর্ক এবং সমন্বয়সাধন করে থাকে।

২.সরবরাহকারী : কোম্পানির পণ্য ও সেবা উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য কাঁচামাল বিভিন্ন সরবরাহকারী যোগান দেয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পোশাক তৈরির প্রতিষ্ঠানের জন্য কাঁচামাল হিসেবে কাপড়, সুতা, বোতাম ইত্যাদি বিভিন্ন উৎস হতে সংগ্রহ করতে হয়।

৩. মধ্যস্থকারবারিগণ বাজারজাতকরণে মধ্যস্থকারবারিগণ হচ্ছে ঐ সমস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাদের সাহায্য ও সহায়তায় পণ্যসামগ্রী চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে বিক্রয় বা বণ্টন হয়ে থাকে ।

৪. ক্রেতাসাধারণ কোম্পানি বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ‘ক্রেতাসাধারণকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে ক্রেতা বাজারে কার্যক্রম চালায়। প্রথমত, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা ভোগের জন্য দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করে তারা ভোক্তা বাজার গঠন করে

দ্বিতীয়ত, পুনঃ প্রক্রিয়াজাতকরণ বা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের জন্য ক্রয় করলে তাতে শিল্প বাজার গঠিত হয়।
তৃতীয়ত, পুনঃবিক্রয়ের জন্য দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করলে তাতে পুনঃবিক্রেতার বাজার গঠিত হয়।
চতুর্থত, সরকার জনসেবা কার্যক্রম চালানোর জন্য দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করলে তাতে সরকারি বাজার গঠিত হয়।
পঞ্চমত, বিদেশে অবস্থিত ভোক্তা, উৎপাদক, পুনঃবিক্রয়কারী ও সরকারি সংস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার গঠিত হয়।

৫. প্রতিযোগী : প্রতিনিয়ত প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হয় এবং যে কোন প্রতিষ্ঠান অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় ভালভাবে ভোক্তাদের সন্তুষ্টি প্রদান করতে চায়। এ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান শুধু ক্রেতার চাহিদাকে অভিযোজন করলে চলবে না, বরং প্রতিযোগীদের কৌশলও অভিযোজন করতে হবে।

৬. জনসাধারণ : জনসাধারণ হলো কোন দল বা গোষ্ঠী যারা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। এ সমস্ত দল ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। বিভিন্ন জনসাধারণকে নিচের চিত্রের মাধ্যমে দেখানো যেতে পারে। অর্থসংস্থানকারী জনসাধারণ অর্থ যোগান ক্ষমতার উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে; যেমন : ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। গণমাধ্যমে জনসাধারণ খবর, নিবন্ধন ও অন্যান্য তথ্যাদি সরবরাহ করে থাকে; যেমন : সংবাদপত্র, সাময়িকী, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি ।

উপসংহার :পরিশেষে বলা যায়, কোম্পানির সার্বিক বাজারজাতকরণ কার্যক্রমকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ব্যষ্টিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানগুলোর সাথে অবশ্যই গভীরভাবে সমন্বয়সাধন করতে হয়। কারণ ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলো বাজারজাতকরণ কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে।