প্রশ্ন৩.১৬ বাজারের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর।অথবা, বাজারকে কতভাগে ভাগ করা যায়, ব্যাখ্যা কর। 3.16 Best Discuss market segmentation.

বাজারের শ্রেণিবিভাগ

উত্তর : সাধারণ অর্থে বাজার বলতে কোনো নির্দিষ্ট স্থান এবং অর্থনীতির ভাষায় বাজার বলতে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকে বুঝানো হলেও মার্কেটিং এর ভাষায় বাজার বলতে কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার বর্তমান ও সম্ভাব্য ক্রেতার সেটকে বুঝানো হয়। অর্থাৎ বাজার বলতে এখানে বিভিন্ন ধরনের ক্রেতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

বাজারের শ্রেণিবিভাগ: বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বাজারের শ্রেণিবিভাগ করা হলেও বাজারজাতকরণের দৃষ্টিতে বাজারকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথাভোক্তা বাজার ও ব্যবসায় বাজার।
নিম্নে বাজারের শ্রেণি বিভাগ দেখানো হলো :

বাজারের শ্রেণিবিভাগ
বাজারের শ্রেণিবিভাগ

ভোক্তা বাজার :

যেসব ক্রেতা বা ভোক্তা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভোগ বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পণ্য ক্রয় করে এসব ভোক্তা বা ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বাজারকে ভোক্তা বাজার বলে। ভোক্তা বাজারে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভোগ বা ব্যবহার করা। এরূপ বাজারে ভোক্তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে এবং এরা অল্প অল্প পরিমাণে পণ্য ক্রয় করে। এ বাজারে পণ্যের মূল্য অপেক্ষাকৃত কম থাকে। ক্রেতারা সুবিধাজনক স্থান থেকে ক্রয় করে।

(খ) ব্যবসায় বাজার যেসব ক্রেতা অন্য কোনো পণ্য উৎপাদন, পুনরায় বিক্রয় এবং পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের উদ্দেশ্যে পণ্য ক্রয় করে সেই সব ক্রেতাদের সমন্বয়ে সঠিত বাজারকে ব্যবসায় বাজার বা সাংগঠনিক বাজার বলে। এরূপ বাজারের ক্রেতারা এলাকাভিত্তিক থাকে এবং এসব ক্রেতার সংখ্যা কম হয়। এরা একসাথে অধিক পণ্য ক্রয় করে এবং এ বাজারের পণ্য মূল্য অপেক্ষাকৃত অধিক হয়। এ বাজারের ক্রেতাদের পণ্য সম্পর্কে ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান থাকে। পণ্য ক্রয়ের সময় লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করে তারপর পণ্য ক্রয় করা হয়। এ বাজারকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

বাজারের শ্রেণিবিভাগ
বাজারের শ্রেণিবিভাগ

১. শিল্প বাজার: যে বাজারের ক্রেতারা ব্যক্তিগত ভোগ বা ব্যবহারের নিমিত্তে পণ্য ক্রয় করে অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল হিসেবে পণ্য ক্রয় করে তাদেরকে নিয়ে গঠিত বাজারকে শিল্প বাজার বলে। অর্থাৎ শিল্প পণ্যের ক্রেতাদের নিয়ে শিল্প বাজার গড়ে উঠে।
এ প্রসঙ্গে W. J. Stanton বলেন, “Business Market is the total of all business users.” অর্থাৎ সকল ব্যবসায় ব্যবহারকারীর সমষ্টিগত রূপই হলো শিল্প বাজার।

২. পুনঃবিক্রেতার বাজার : যেসব ক্রেতা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিক্রয় করার জন্য পণ্য দ্রব্য ক্রয় করে তাদেরকে নিয়ে গঠিত বাজরকে পুনঃবিক্রেতার বাজার বলে। সাধারণত বিভিন্ন ধরনের মধ্যস্থাকারীরা এ বাজারের ক্রেতা হয়ে থাকে। যেমন- পাইকারি, খুচরা বিক্রতো বা ব্যবসায়ী, এজেন্ট, ফড়িয়া ইত্যাদি। এরা উৎপাদকদের নিকট থেকে পণ্য ক্রয় করে ক্রেতা এবং অন্যান্য বিক্রেতাদের নিকট অধিক লাভে বিক্রয় করে।

বাজারের শ্রেণিবিভাগ
বাজারের শ্রেণিবিভাগ

৩. সরকারি বাজার : সরকারি বাজার বলতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত বাজারকে সরকারি বাজার সরকারের এসব বিভাগসমূহ নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের পণ্য দ্রব্য নিজেরাই ক্রয় করে। সরকারের এসব বিভাগ শুধু নিজেদের প্রয়োজনেই পণ্য ক্রয় করে না অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করে থাকে। অর্থাৎ সরকারি বিভিন্ন বিভাগীয় ক্রেতাদের নিয়ে এ বাজার গঠিত হয় বলে একে সরকারি বাজার বলা হয়।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক বাজার : যেসব প্রতিষ্ঠান মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য ছাড়া শুধুমাত্র সেবা প্রদানের জন্য তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে পণ্য ক্রয় করে সেই সব ক্রেতাদেরকে নিয়ে গঠিত বাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক বাজার বলে। যেমন- হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সমিতি, এনজিও, যাদুঘর, কারাগার ইত্যাদি। এসব ক্রেতাদের মুনাফা অর্জনই প্রধান উদ্দেশ্য নয়, সেবা প্রদানই এদের একমাত্র লক্ষ্য ।

বাজারের ধারণায় যে মৌলিক বিষয়গুলো কাজ করে তা হলো চাহিদা, যোগান, সময় এবং দাম ।
বাজারব্যবস্থায় একটি সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতা দর-কষাকষি করে দ্রব্য বা সেবার দাম নির্ধারণ করে বেচা-কেনা করে। এই ধারণার প্রেক্ষিতে সময়ের বিবর্তনে বিভিন্ন অবস্থার কারণে বিভিন্ন ধরনের বাজার ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে এবং বাজার ব্যবস্থা বিকাশ লাভ করেছে ।

সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাজারের উৎপত্তি বিভিন্ন ধরনের হয়েছেবাজারের ধারণায় যে মৌলিক বিষয়গুলো কাজ করে তা হলো চাহিদা, যোগান, সময় এবং দাম ।
বাজারব্যবস্থায় একটি সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতা দর-কষাকষি করে দ্রব্য বা সেবার দাম নির্ধারণ করে বেচা-কেনা করে। এই ধারণার প্রেক্ষিতে সময়ের বিবর্তনে বিভিন্ন অবস্থার কারণে বিভিন্ন ধরনের বাজার ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে এবং বাজার ব্যবস্থা বিকাশ লাভ করেছে । সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাজারের উৎপত্তি বিভিন্ন ধরনের হয়েছে ।

বাজারের শ্রেণিবিভাগ
বাজারের শ্রেণিবিভাগ

পরিশেষে বলা যায় যে, মূলত ক্রেতা বা ভোক্তাদের প্রকৃতি বৈশিষ্ট্য, ক্রয় আচরণ, অভ্যাস, রুচি পছন্দ এবং ক্রয়ের উদ্দেশ্য ধরনের ভিত্তিতেই বাজারজাতকরণের দৃষ্টিতে বাজারের শ্রেণিবিভাগ করা হয়ে থাকে।

পরবর্তী প্রশ্ন

বাজারের অবস্থান গ্রহনের কৌশলসমূহ বনর্না কর

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related