প্রশ্ন : ৯। কোন পটভূমিতে শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন? অথবা, কোন প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবুর রহমান ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন?

0
74

উত্তর : ভূমিকা : আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পাকিস্তানে ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক । ১৯৬৬ সালের ৬ দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন দাবিকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে সামরিক জান্তা আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আশ্রয় নেন। বাঙালির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রভূত ভূমিকা রাখার জন্য বাংলার জনগণ ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।

সামরিক জান্তা আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে যে পটভূমিতে শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন :

সামরিক আইন জারি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতন্ত্রের নামে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। ১৯৬৫ সালে সম্মিলিত বিরোধী দল গঠন ও মিস ফাতেমা জিন্নাহকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য শেখ মুজিব মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে পূর্ব-পাকিস্তানের অরক্ষিত রাখা হয় যা মুজিব ফলাও করে জনসমক্ষে প্রচার করতে থাকেন।

১৯৬৬ সালে লাহোরে আইয়ুব বিরোধী সম্মেলনে শেখ মুজিব প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন সংবলিত ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। পূর্ব পাকিস্তানে এ আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে।

আইয়ুব খান ব্যাপক দমন-পীড়ন ও ধর-পাকড় ও জেল-জুলুম করেও এ আন্দোলন নস্যাৎ করতে ব্যর্থ হয় ।

ফলে এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করা, শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার আসামি করা এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আইয়ুব সরকার ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রণয়ন করে।

যাতে শেখ মুজিবর ১নং আরো ৩৪ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য সব আসামিই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

অন্যদিকে রাজসাক্ষীদের কেউ কেউ গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন এবং তাদের জোরপূর্বক সাক্ষ্য দিতে রাজি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। ফলে বিচারকরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।

এদিকে সারা দেশে প্রবল গণআন্দোলন শুরু হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান, ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহার হত্যার প্রতিবাদে গণঅভ্যুত্থান সহিংসতায় রূপ নেয়।

অবশেষে আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি এক বেতার ভাষণে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করেন ও বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তির ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার আসন্ন গণবিক্ষোভ প্রশমিত হয়ে আসে।

২৩ ফেব্রুয়ারি সদ্যমুক্ত আগরতলা মামলায় জড়িত সবাইকে এক ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে সদ্য কারামুক্ত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ঐতিহাসিক রমনা রেসকোর্স ময়দানে তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ যা পেশ করেছিলেন শেখ মুজিব। তার এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করা বা দমিয়ে রাখার জন্য তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেওয়া হয়। কিন্তু এই আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ মুজিব জনগণকে সর্বাধিক ঐক্যবদ্ধ ও অধিকার সচেতন করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে কারণে তাকে বাংলার বন্ধু তথা বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়।