প্রশ্ন : ৫। অসহযোগ আন্দোলন কি?অথবা, অসহযোগ আন্দোলন কাকে বলে?

0
227

অসহযোগ আন্দোলন :

উত্তর : ভূমিকা ভারতবর্ষের ইতিহাসে অসহযোগ আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অহিংসা, আইন অমান্য আন্দোলন, স্বদেশী দ্রব্য গ্রহণ ও বিদেশি পণ্য বর্জন ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ঠিক তেমনিভাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের সকল নির্যাতন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর এই অসহযোগ আন্দোলনের ফলে পাকিস্তান সরকার ভীত-প্রকম্পিত হয়ে পড়ে।

অসহযোগ আন্দোলন : ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ আন্দোলন ছিল পাকিস্তানি স্বৈরতান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করলে এ আন্দোলন ক্রমশ গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

শাসকগোষ্ঠী জনগণের দাবিকে স্তিমিত করার জন্য ২ ও ৩ মার্চ কারফিউ জারি করলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা ভঙ্গ করে। পুলিশ নিরীহ জনগণের উপর নির্বিচারে গুলি চালালে বহু লোক হতাহত হয়। পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।

তিনি আহ্বান জানান যে, “খুনি ইয়াহিয়া সরকারের হটকারী ও পাশবিক অত্যাচারের প্রতিবাদে আজ থেকে শান্তিপূর্ণ ‘অসহযোগ আন্দোলন’ চলতে থাকবে। কল-কারখানা বন্ধ থাকবে, অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে, রেলগাড়ির চাকা বন্ধ থাকবে, খাজনা-ট্যাক্স দেওয়া চলবে না এবং অফিস-আদালত, ব্যাংক বন্ধ থাকবে।”

বাংলার জনগণ বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে এ আন্দোলনের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে দেশের সর্বত্র পালন করেন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বাধ্য হয়ে ৬ মার্চ ঘোষণা করেন

যে, “২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে এবং তার পূর্বে ১০ মার্চ ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য ১২জন নেতার এক ঘরোয়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলার ইতিহাসে অসহযোগ আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। এ আন্দোলনের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে বাংলার জনগণ স্বাধীনতা সংগ্রামে উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।