একদলীয় ব্যবস্থার দোষ-গুণ সম্পর্কে আলোচনা :

0
80

একদলীয় ব্যবস্থার দোষ-গুণ
Merits & Demerits of One Party

গুণ : একদলীয় ব্যবস্থার গুণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-

১। জাতীয় ঐক্য ও সংহতি : একদলীয় ব্যবস্থায় জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় হয়।

দেশের সব জনগণ একটি মাত্র রাজনৈতিক আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়ার ফলে একই আদর্শের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ হয়।
ফলে জাতীয় সংহতি ও শক্তি বৃদ্ধি পায় ৷

২। সরকারের স্থায়িত্ব : একদলীয় ব্যবস্থায় সরকার স্থায়ী হয়।

ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকায় সরকার জনকল্যাণসাধনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে।

৩। অপব্যয় হয় না : একদলীয় ব্যবস্থায় অহেতুক অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কা থাকে না। এ ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না।

যোগ্যতার ভিত্তিতে উপযুক্ত প্রার্থীই নির্বাচনে জয়ী হন। ফলে একদলীয় ব্যবস্থা অর্থনৈতিক দিক থেকে সাশ্রয়ী।

৪। জরুরি অবস্থায় উপযোগী : একদলীয় ব্যবস্থা জরুরি অবস্থার জন্য উপযোগী।

জরুরি অবস্থায় একদলীয় ব্যবস্থা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারে।

এ ব্যবস্থায় নীতি ও আদর্শের ঐকমত্য থাকার ফলে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় অহেতুক সময়ক্ষেপণ হয় না।

৫।দলীয় শৃঙ্খলা : একদলীয় ব্যবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ।

এ ব্যবস্থায় কোনো প্রকার বিরোধিতা বা দলীয় কোন্দল সহ্য করা হয় না। ফলে দলীয় আনুগত্য সুদৃঢ় থাকে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না।

৬। দ্রুত উন্নতি : একদলীয় ব্যবস্থায় দ্রুত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব।

কারণ এতে দলীয় নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয় না।

দেশে স্বীকৃত একটি মাত্র রাজনৈতিক দল থাকায় উক্ত দল জনকল্যাণসাধনে আত্মনিয়োগ করে, ফলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয়। উদাহরণস্বরূপ চীনের কথা বলা যায়।

৭। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা : একদলীয় ব্যবস্থায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

এ ব্যবস্থায় সব জনগণ একই দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কোনো প্রকার বিরোধিতা, হরতাল পালন, আইনসভা বর্জন, জ্বালাও-পোড়াও প্রভৃতি অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড ঘটার তেমন কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সম্ভাবনাও কম থাকে।

দোষ : একদলীয় ব্যবস্থার দোষগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-

১। অগণতান্ত্রিক : একদলীয় ব্যবস্থা অগণতান্ত্রিক।
এ ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ভূলুণ্ঠিত হয়।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে; কিন্তু এ ব্যবস্থায় একটি মাত্র দল থাকে।

ফলে জনগণের হাতে ক্ষমতাচর্চার সুযোগ থাকে না।

২। ব্যক্তিস্বাধীনতার বিরোধী : একদলীয় ব্যবস্থা ব্যক্তিস্বাধীনতাবিরোধী।

এ ব্যবস্থায় ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতা ইত্যাদি থাকে না।

৩। সুষ্ঠু জনমত গঠনে বাধা : একদলীয় ব্যবস্থায় সুষ্ঠু জনমত গঠিত হয় না।

এ ব্যবস্থায় বিরোধী মত প্রকাশের সুযোগ এবং প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকায় সুষ্ঠু জনমত বিকশিত হতে পারে না।

৪। স্বৈরাচারী শাসন : একদলীয় ব্যবস্থায় শাসক যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।

প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দল না থাকায় শাসকগণ স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে।

৫। রাজনৈতিক শিক্ষার পথ রুদ্ধ : একদলীয় ব্যবস্থায় জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষার তেমন কোনো সুযোগ থাকে না।

জনগণ স্বাধীনভাবে রাজনীতি চর্চা করতে পারে না।
ফলে জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

৬। বিপ্লবের সম্ভাবনা : একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিপ্লবের সম্ভাবনা থাকে। এ ব্যবস্থায় জনগণ ক্ষমতাসীন দলের কোনো কার্যক্রমের সমালোচনা করতে পারে না।

ফলে জনগণের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে, যা পরবর্তী সময়ে বিপ্লব ও বিদ্রোহের আকার ধারণ করতে পারে।

৭। সংখ্যালঘুদের স্বার্থ অবহেলা : একদলীয় ব্যবস্থায় সংখ্যালঘুদের স্বার্থ অবহেলিত হয়।

একটি রাষ্ট্রে সাধারণত
বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের লোক বাস করে এবং তাদের স্বার্থও বিভিন্ন ধরনের হয়।
এই বিভিন্ন ধরনের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব প্রয়োজন।

কিন্তু একদলীয় ব্যবস্থায় একাধিক রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ নেই। ফলে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ অবহেলিত হয়ে থাকে।

দ্বিদলীয় ব্যবস্থা:

কোনো দেশে যখন রাজনৈতিক কার্যকলাপে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায় এবং অন্য দলগুলোর কার্যকলাপ চোখে পড়ে না তখন তাকে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা বলা হয়।

এরূপ ব্যবস্থায় দুটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেখা যায়।

অন্য দলগুলোকে স্থবির মনে হয়। এরূপ ব্যবস্থায় প্রধান দুটি দলের মধ্যে ক্ষমতার হাতবদল হতে দেখা যায়।

দ্বিদলীয় ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

দ্বিদলীয় ব্যবস্থায় দুটি মাত্র দলের মতাদর্শে আবর্তিত হয় বলে জনসাধারণ সহজে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারে।

এতে শক্তিশালী দল গড়ে ওঠে এবং সরকারের স্থায়িত্ব দেখা যায়।

অন্যদিকে দুটি মাত্র দলের মতাদর্শের কারণে জাতি চাহিদা অনুযায়ী মতাদর্শ থেকে বঞ্চিত হয়।

এ ব্যবস্থায় নাগরিকের রাজনৈতিক জ্ঞান প্রসারের ক্ষেত্র সীমিত ।