অপরাধ কি বা অপরাধের প্রতিকার সমূহ কি কি

0
31

অপরাধের প্রতিকার

Prevention of Crime

কর্মকার দূর অপরাধ কোনো সমাজেই ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে না। তাই এর আশু প্রতিকার প্রয়োজন।

অপরাধমূলক করার জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে-

•অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দূর করার জন্য প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন। প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রাচীন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক পদ্ধতি চালু করতে হবে।

এতে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে যা অপরাধের মাত্রা হ্রাস করবে। তাছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্যপ্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কৌশল, শক্তি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার জন্য সদস্যদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হতে হবে যাতে অদক্ষ ও অযোগ্য লোক নিয়োগ না পায়। • অপরাধের প্রতিকারে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে।

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ও অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। গণমাধ্যম যাতে নিরপেক্ষ ।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে পারে সেজন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অপরাধ রোধ করতে হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

দেশের আয়তন, সম্পদ ও প্রশাসন ব্যবস্থার সাথে সংগতি রেখে একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। কেননা অপরাধ মুক্ত সমাজের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে একটি সীমিত ও সুশৃঙ্খল জনগোষ্ঠী

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কেননা অর্থনৈতিক কারণেই অনেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

তাই এ সমস্যা থেকে আশু মুক্তির জন্য কার্যকরী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য কার্যকরী
পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মানুষের অপরাধপ্রবণতা দূর করার জন্য নৈতিক শিক্ষার প্রবর্তন করতে হবে। কেননা নৈতিক মূল্যবোধের অভাব মানুষ সামাজিক আইন বা নিয়মকানুনকেও উপেক্ষা করে।

ফলে মানুষ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যেতে দ্বিধ করে না। নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে মানুষ যেকোনো ধরনের অপরাধ করতে পারে।

তাই মানুষের নৈতিকতা বদ্ধ করার জন্য শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক শিক্ষার প্রবর্তন করতে হবে।

অনেক সময় পুরনো আইন দ্বারা উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় না। ফলে বিদ্যমান আইনের কার্যকারিতার |

অভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। তাই অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যমান আইনের সংস্কার প্রয়োজন। যুগের সাথে সাথে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হয়।

যেমন এক যুগে যা অপরাধ তা অন্যযুগে অপরাধ বলে। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিদ্যমান আইনের সংস্কার, নতুন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পরিগণিত নাও হতে পারে।

ফলে বিদ্যমান আইন অনেক সময় অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়।

অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। কোনো দেশের অপরাধী যাতে অন্যকোনো দেশে আত্মগোপন করতে না পারে সেজন্য আন্তর্জাতিকভাবে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

অপরাধী শনাক্তকরণ ও ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সহযোগিতামূলক ও সহনশীল মনোভাব পোষণ করতে হবে।

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। কেননা উপযুক্ত বিনোদনের অভাবে মানুষের সামাজিকীকরণের বিকাশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় না।

ফলে মানুষ অনেক সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। তাই সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের বিকাশ ঘটানো, অবসর যাপন ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এবং সেসবের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারলে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে বলে আশা করা যেতে পারে।

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পিছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সরকারের উত্থান-পতনে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় যা মানুষকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যেতে প্ররোচিত করে।

তাই অপরাধমূলক কার্যকলাপ রোধ করার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে।

বেকারত্ব মানুষকে অপরাধপ্রবণ করে তোলে। বেকারত্ব মানুষের নীতিনৈতিকতা ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করে।

ফলে কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে মানুষ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই বেকারত্ব ও হতাশার করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষার জন্য সরকারকে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

তাছাড়া নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য বা নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই সৃষ্টির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনা সুদে ও অল্প সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা
করতে হবে।

অসৎ সঙ্গীদের সাথে মেলামেশার ফলে অনেকেই অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। কেননা বন্ধুবান্ধবের আচরণ ব্যক্তির আচরণকে প্রভাবিত করে ।

তাই বন্ধুবান্ধব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং অসৎ ও খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ পরিত্যাগ করতে হবে। তাহলে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

এছাড়াও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা, সুন্দর বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক মনোভাব প্রত্যাহার ইত্যাদির মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে দূর করা যায়।